বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

১২ বছরেও চালু হয়নি চার কোটি টাকার টার্মিনাল

মৌলভীবাজার জেলা শহরের বাস টার্মিনালটি উদ্ধোধনের পর থেকে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাস আসা-যাওয়া না করায় প্রায় ১২ বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। সরকার ৪ কোটি টাকা খরচ করে বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করলেও এখন সেটি কেবল নামেমাত্র।

সরেজমিনে টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ২০১০ সালে মৌলভীবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করতে টার্মিনালটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে টার্মিনাল ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। পুরো ভবনজুড়ে নোংরা অবস্থা। ভবনের মেঝে গোবর ও বিভিন্ন রকম আবর্জনা ছড়ানো। মেঝের টাইলস ভেঙে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কক্ষের কাচের দরজা খোলা। কক্ষের ভেতরটা ময়লায় কদাকার। যানবাহন না আসার কারণে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার নামে বরাদ্দ করা কাউন্টার বন্ধ। টার্মিনালের পূর্বদিকে আবর্জনা আর গরু মহিষ ও ছাগলের অবস্থান। ভবনটি বাইরে ও ভেতরে রড, সিমেন্ট ও বালু রাখা হয়েছে।

পৌরসভা ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন একর জায়গার মধ্যে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে এই বাস টার্মিনাল মৌলভীবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছিল। শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যুগিডর এলাকায় টার্মিনালের অবস্থান।

টার্মিনালটির জমি কেনা থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন।

পরে জেলা প্রশাসন পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০১০ সালের ১ নভেম্বর থেকে বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। চালুর পর ঢাকা-মৌলভীবাজার, সিলেট-হবিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল করে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী কিছু অটোরিকশাও টার্মিনাল থেকে আসা-যাওয়া করতো। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরই বাসগুলো টার্মিনাল থেকে সরে অবৈধ বাসট্যান্ডে চলে গেলে টার্মিনাল পুরোনো নীরবতায় ডুবে যায়। এতদিনেও আর টার্মিনালের সরবতা ফিরিয়ে আনা যায়নি।

টার্মিনালের পাশের স্থানীয় কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে জানান, শুধু হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বাস রাস্তার মধ্যে একটু সময়ে থামে। টার্মিনালের ভেতরে ঢোকে না। আর কোনো বাস থামে না। টার্মিনাল দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন একজন নৈশপ্রহরী। আগে রাতের বেলা টার্মিনালের লাইট জ্বালানো হলেও এখন আর লাইট জ্বলে না।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক শায়েস্তাগঞ্জের মিরপুর হয়ে শেরপুর দিয়ে সিলেট চলে যাওয়ায় বাস টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না বলে দেশ রূপান্তরকে জানান, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, এখন নতুন করে শ্রীমঙ্গল সড়কে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com